প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১২ মে, ২০২৬) চীন সফরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ আমেরিকানদের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে তিনি মোটেও চিন্তিত নন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বক্তব্যে তাঁর প্রশাসনের বর্তমান অগ্রাধিকার স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে:
ইরান নিয়ে কঠোর অবস্থান: ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র হাতে না পায়, সেটিই এখন তাঁর প্রশাসনের একমাত্র লক্ষ্য।
অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে উদাসীনতা: যুদ্ধের ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি বা অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি অত্যন্ত কঠোর স্বরে জানান, "আমি কাউকে নিয়ে ভাবি না"।
অগ্রাধিকার পরিবর্তন: তাঁর সমস্ত মনোযোগ এখন কেবল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকানোর দিকে নিবদ্ধ।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যটি এমন এক সময়ে এল যখন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে দিশেহারা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন:
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বৈপরীত্য: এই অবস্থান ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিশ্রুতির ঠিক উল্টো, যেখানে তিনি বারংবার ভোটারদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিলেন।
ভোটারদের ওপর প্রভাব: জ্বালানি তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করার এই সময়ে প্রেসিডেন্টের এমন ‘উদাসীন’ মন্তব্য সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ডেমোক্র্যাট শিবিরের সমালোচনা: বিরোধীরা দাবি করেছেন যে, এই মন্তব্য প্রমাণ করে ট্রাম্প সাধারণ আমেরিকানদের প্রকৃত সমস্যা ও কষ্ট থেকে কতটা বিচ্ছিন্ন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই কঠোর বিদেশনীতি এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত আমেরিকার রাজনৈতিক বিবর্তনের একটি অংশ।
বিংশ শতাব্দীর শুরু ও বিচ্ছিন্নতাবাদ (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০০ সালের দিকে আমেরিকা 'বিচ্ছিন্নতাবাদ' বা আইসোলেশনিজম নীতি অনুসরণ করত, যেখানে তারা নিজেদের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নকেই প্রাধান্য দিত। ১৯০০ সালের সেই সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের আমেরিকা অনেক বেশি বৈশ্বিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে।
শীতল যুদ্ধ ও নিরাপত্তা (১৯৭১-১৯৯০): ১৯৭১ সালের পর থেকে আমেরিকা তার জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে অনেক সময় অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির চেয়ে ভূ-রাজনীতিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। ট্রাম্পের বর্তমান 'ইরান নীতি' সেই স্নায়ুযুদ্ধের মানসিকতারই আধুনিক রূপ।
২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব ও ২০২৬-এর বাস্তবতা: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান বাংলাদেশে যেমন ক্ষমতার পরিবর্তন এনেছে, তার প্রভাব মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতেও অনুভূত হচ্ছে। ২০২৬ সালের এই মে মাসে ট্রাম্প এখন চীন ও ইরান নিয়ে নতুন মেরুকরণ করছেন।
২০২৬-এর সন্ধিক্ষণ: ১৯০০ সালের সেই শিল্প বিপ্লবের আমল থেকে ২০২৬ সালের এই আধুনিক প্রযুক্তি ও পারমাণবিক উত্তেজনার যুগে পৌঁছে আমরা দেখছি যে, আমেরিকার প্রেসিডেন্টরা এখন জনমতের চেয়ে 'নিরাপত্তা'কে বড় করে দেখছেন।
ইতিহাস সাক্ষী, যে রাষ্ট্রপ্রধান নিজ দেশের মানুষের আর্থিক সংকট উপেক্ষা করে যুদ্ধের দিকে ঝুঁকেছেন, তাকে দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক মাশুল দিতে হয়েছে। ১৯০০ সালের সেই নীতিনিষ্ঠ নেতৃত্ব থেকে ২০২৬ সালের এই ‘উদাসীন’ মন্তব্যের প্রেক্ষাপট এটিই প্রমাণ করে যে, ভূ-রাজনীতির জটিল সমীকরণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি প্রায়ই আড়ালে পড়ে যায়। ট্রাম্পের এই মন্তব্য ২০২৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: ১. প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের প্রাক্কালে দেওয়া সাক্ষাৎকার ও সংবাদ প্রতিবেদন (১২ মে, ২০২৬)।
২. ঐতিহাসিক দলিল: বিংশ শতাব্দীর মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনীতির বিবর্তন (১৯০০-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |